রবিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

হাজারো রোহিঙ্গা গৃহহীন, সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসন

ইফতিয়াজ নুর নিশান:

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন হাজারো রোহিঙ্গা। রবিবার (৯ জানুয়ারি) উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহকাটা এলাকার ১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ও সি ব্লকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪৮০টি বসত ঘর, পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ১০ টি বসতঘর, ৫ টি লার্নিং সেন্টার, ৩ টি মসজিদ ও ১ টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সুত্র।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর একটি সুত্র জানিয়েছে এঘটনায় অন্তত ৪৭৪ টি রোহিঙ্গা পরিবারের ২৩৮৫ জন রোহিঙ্গা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

এছাড়াও এঘটনায় ১৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন, এবং একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের হেডমাঝি মোহাম্মদ নুর টিটিএন কে বলেন, ” আমার ব্লকের ৪৬০টি ঘর পুড়ে গেছে। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ, ঘর হারিয়ে কেউ কেউ আত্নীয় স্বজনের বাড়ি ও অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে এবং খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছে।”

একই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ কাশিম (৩৪) নামে এক রোহিঙ্গা জানান, ” আমার ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে, কোনরকমে স্ত্রী কন্যা সহ আগুন লাগার পর বেরিয়ে আসি। জানিনা এখন কি করব! চোখে কোন দিশা দেখছি না, আমরা খুব অসহায়। ”

অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত সহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ টিটিএনকে বলেন, “অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। যারা ঘর হারিয়েছেন, তাদের আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই তাদের সেখানে নেওয়া হবে ।”

উল্লেখ্য, রবিবার (বিকেল ৫ টার দিকে ১৬ নং ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় থেকে ২৫০ গজ দূরে বি ব্লকের বাসিন্দা জনৈক মোহাম্মদ আলীর শেড এর রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়।

ফায়ারসার্ভিসের ১০ টি ইউনিট,স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় দুইঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভেল ডিফেন্স এর উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ” দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অগ্নিকান্ডে বিস্তারিত কারণ পরিবর্তীতে জানানো হবে। আমরা এখানেই অবস্থান করছি।”

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের মার্চে উখিয়ার তিন ক্যাম্পে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুহারা হয়ে পড়ে, মারা যান ১১ জন।

চলতিবছর শুরুর প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই এটি দ্বিতীয় অগ্নিকান্ডের ঘটনা, জানুয়ারির ২ তারিখ উখিয়ার ২০ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি করোনা হাসপাতালের ৭০ টি শয্যা আগুনে পুড়ে যায়।

আরও খবর

Stay Connected

0FansLike
3,134FollowersFollow
19,100SubscribersSubscribe
- test Ad -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ