বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

স্বাধীনতার সুফল পেতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

টিটিএন ডেস্ক:

স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুক্রবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ – মহান বিজয় দিবসে এটিই আমার প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি।

সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বিজয়ের আনন্দঘন এই দিনে আমি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ যারা দেশের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন, সবার অবদানের কথা শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

আবদুল হামিদ বলেন, স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এর মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি সার্বভৌম দেশ, স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা।

সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। তারই নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। ডাক দিয়েছিলেন কৃষি বিপ্লবের। আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতি, কালোবাজারি, মুনাফাখোর, লুটেরাদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের আপনজনদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে উন্নয়নের সেই অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। রুদ্ধ হয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ। উত্থান ঘটে স্বৈরশাসন ও অগণতান্ত্রিক সরকারের।

তিনি বলেন, দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দানের লক্ষ্যে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ‘রূপকল্প ২০৪১’। সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির ফলে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে।

করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এ সংকটও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব। এজন্য সবার সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতভিন্নতা যাতে উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত না করে সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, জাতির পিতা ঘোষিত এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাসী। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ও নির্যাতিত লাখ-লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী।

আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। জাতি তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। আমি আশা করি, বিশ্বমন্দা ও অর্থনীতির এই ক্রান্তিকালে প্রবাসী ভাইবোনেরা রেমিট্যান্স প্রেরণ অব্যাহত রাখবেন এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবেন।

সর্বশেষ খবর

রামুর গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পূর্বজুমছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া যুবকের নাম...

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি করছে সরকারের ইজিপিপি প্রকল্প- উখিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

শামিমুল ইসলাম ফয়সাল, উখিয়া: রোহিঙ্গাদের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি সচল রাখার পাশাপাশি কর্মস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে সরকারের অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)...

জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিটিএন ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশে-মিয়ানমার জিরো পয়েন্টে যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছিল, তা এখন আর নেই। কিছু রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। তবে...

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা- রামুতে মাহাবুবুল হক মুকুল

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী: বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা। বাঙালীর জন্য মমত্ববোধ ভালোবাসা দেখিয়ে, কৃষক-শ্রমিকের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন। বাংলার কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ...