সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

শেষ অংকে কাতার বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা নাকি ফ্রান্স

টিটিএন ডেস্ক:

আলোচনার কেন্দ্রে মহাতারকা লিওনেল মেসি। মহানায়কের পথে এগিয়ে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপের কথাও আসছে। তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা যাদের দিতে হবে, তারা সম্ভবত রয়ে গেছেন আলোচনার বাইরে! উগো লরিস আর এমিলিয়ানো মার্তিনেস, পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দুই প্রহরী চূড়ান্ত পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে।

আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স দুই দলেরই রয়েছে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ। যে কোনো রক্ষণকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের। যে কোনো গোলরক্ষকের প্রতিরোধ ভেঙে আদায় করে নিতে পারে গোল। সেদিক থেকে শেষ চ্যালেঞ্জটাই লরিস ও মার্তিনেসের জন্য হতে যাচ্ছে সবচেয়ে কঠিন।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৯টায় কাতার বিশ্বকাপের শেষ মহারণে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। এই ম্যাচে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।

এমনিতেও গোলরক্ষকদের কাজটা ভীষণ কঠিন। কতবার দলকে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন সেটা সাধারণত কেউ মনে রাখে না। তারা কতবার ভুল করেছেন কিংবা কতবার জাল থেকে বল কুড়িয়ে এনেছেন সেটা ঠিকই মনে থাকে। আরও একবার স্নায়ু চাপের সেই পরীক্ষা দিতে হবে তাদের।

লরিস দীর্ঘ দিন ধরে ফ্রান্সের গোলরক্ষক। অনেক দিন ধরেই দলের অধিনায়ক। মার্তিনেসের উত্থান অনেকটা হুট করেই। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরোর চোটের জন্য গত বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পান উইলি কাবাইয়েরো। তার মারাত্মক সব ভুলে একের পর এক গোল হজম করেন তিনি। পরে সুযোগ পান ফ্রাঙ্কো আরমানি। তবে মন ভরাতে পারেননি তিনিও। শেষ পর্যন্ত আরো দুয়েক জনকে পরীক্ষার পর সুযোগ আসে মার্তিনেসের সামনে।

দুই জনই খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। মিল বলতে এটুকুই। তবে বিশ্বকাপ ফাইনাল লরিস ও মার্তিনেসকে দাঁড় করিয়েছে একই রেখায়। সামলাতে হবে প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত সব ফরোয়ার্ডদের।

মরুভূমির বিশ্বকাপের পথচলায় দুই জনই ভেসেছেন প্রশংসায়। ভূমিকা রেখেছেন দলের অগ্র যাত্রায়। লরিসের চেয়ে অবশ্য এখনটায় একটু এগিয়ে মার্তিনেস। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার-ফাইনাল পেরিয়েছে তার বাজ পাখির ডানায় ভর করে।

অনায়াস জয়ের পথে ছোটা আর্জেন্টিনাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিলেন ভঠ ভেহর্স্ট। দুইবার পরাস্ত করেছিলেন মার্তিনেসকে। টাইব্রেকারে অবশ্য তিনি ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করেন ‍দুর্দান্ত দুটি সেভে।

টাইব্রেকারে ভার্জিল ফন ডাইকের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান মার্তিনেস। স্টিভেন বেরহাসের পেনাল্টি রুখে দেন বাঁ দিকে নিখুঁত টাইমিংয়ের ডাইভ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত শঙ্কার কালো মেঘ সরিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালের পর আরেকটি বিশ্বকাপের আশাও বেঁচে যায় আলবিসেলেস্তেদের।

গ্রুপ পর্বে দুইবার পরাস্ত হয়েছিলেন মার্তিনেস। দুবারই সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে। ৪৮তম মিনিটে আল শেরি এবং পাঁচ মিনিট পর শাফি আল-দাওসারির শট ফেরানোর উত্তর জানা ছিল না তার। মেক্সিকো ও পোল্যান্ড ম্যাচ শেষ করেন ‘ক্লিনশিট’ নিয়ে।

গ্রুপ পর্বে লরিস পরাস্ত দুইবার। অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কের বিপক্ষে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে খেলেননি লরিস।

নকআউট পর্বের শুরুতে গোল হজম করেন মার্তিনেস। এনসো ফের্নান্দেসের আত্মঘাতী গোল ফেরানোর খুব একটা সুযোগ ছিল না তার। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে রবের্ত লেভানদোভস্কির পেনাল্টি ঠেকাতে পারেননি লরিস।

এরপর কোয়ার্টার-ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মার্তিনেসের ওই চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স। এই ধাপে উজ্জ্বল ছিলেন লরিসও। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচে যদিও হ্যারি কেইনের ৫৪তম মিনিটের পেনাল্টি আটকাতে পারেননি তিনি। তবে এর আগে জুড বেলিংহ্যাম ও কেইনের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন টটেনহ্যাম হটস্পারের এই গোলরক্ষক। পরে আরেকটি পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড, সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কেইন।

সেমি-ফাইনালে মার্তিনেসকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। লিওলেন মেসির অবিশ্বাস্য ফুটবলে রক্ষণ সামলানো নিয়েই ব্যস্ত ছিল ক্রোয়াটরা। ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া গতবারের রানার্সআপরা এবার কাতার বিশ্বকাপ শেষ করেছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোকে হারিয়ে।

এই মরক্কো সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সকে অস্বস্তিতে রেখেছিল পুরো ম্যাচ জুড়ে। যদিও ২-০ গোলে হেরে উত্তর আফ্রিকার দেশটির বিশ্বকাপের আঙিনায় পথচলা থামে। সেই ম্যাচে নিজের সামর্থ্য দেখান লরিস। অক্ষত রাখেন জাল।

ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এ আসরেই নিজের করে নিয়েছেন লরিস। ফাইনালে মাঠে নামলে গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়বেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন আরও আগে। এবার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দুটি শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ার হাতছানি তার সামনে। অন্যদিকে মার্তিনেস মুখিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অনন্য স্বাদ পেতে।

মরুর বিশ্বকাপে দুজনে এবার শেষ পরীক্ষায় বসবেন। মার্তিনেসের চেয়ে চার বছরের বড় লরিসকে সামলাতে হবে মেসি নামের এক জাদুকরকে, হুলিয়ান আলভারেস নামের এক গতিময় ফরোয়ার্ডকে। লরিসের চেয়ে উচ্চতায় তিন ইঞ্চি লম্বা মার্তিনেসের সামনে কিলিয়ান এমবাপে, অলিভিয়ে জিরুদের মতো ক্ষিপ্র ও ধারাল জুটি।

এই দুই জুটির গোল সমান ৯টি করে। মেসির পাঁচটির সঙ্গে আলভারেসের চারটি অন্য দিকে এমবাপের পাঁচটির সঙ্গে জিরুদের চারটি। শিরোপা তো বটেই, গোল্ডেন বুটের দৌড়েও রয়েছেন এই চার জন। মার্তিনেস ও লরিসের সামনে তাই অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ফাইনালে তাদের পারফরম্যান্সও গড়ে দিতে পারে ব্যবধান।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সর্বশেষ খবর

নির্মাতা কাওসার চৌধুরী পাচ্ছেন জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ির কৃতি সন্তান বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা কাওসার চৌধুরী জাতীয় চলচিত্র পুরুষ্কার ২০২১ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনিই প্রথম ব্যাক্তি...

পাঠ্যবই নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

টিটিএন ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন পাঠ্যক্রমে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তবে এ নিয়ে অপপ্রচার চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ইসলামের...

কক্সবাজারের ই”য়াবার মামলায় ৮ মিয়ানমার নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আব্দুর রশিদ মানিক: দুই লক্ষ ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আট রোহিঙ্গাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। একইসাথে দন্ডিতদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা...

২৭ দিনে ১৬৭ কো‌টি ডলার পাঠালেন প্রবাসীরা

টিটিএন ডেস্ক: বছরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ভাব অব্যাহত আছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ২৭ দিনে ১৬৭ কো‌টি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। টাকার অংকে যার...