বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

শরণার্থী দিবস আজ, চার বছরে মাত্র ৫৮ হাজার রোহিঙ্গা কে শনাক্ত করেছে মায়ানমার

ইফতিয়াজ নুর নিশান :

২০ই জুন, আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস। ইউএনএইচসিআর’ এর পরিসংখ্যান বলছে, সারাবিশ্বে উদ্বাস্ত বা বাস্তুচ্যুত মানুষ এখন প্রায় ৯ কোটি।

মায়ানমারের দমন নির্যাতনে নির্মম অমানবিকতা সহ্য করা রোহিঙ্গা, বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শরণার্থী জনগোষ্ঠী।

২০১৭ সালে স্বদেশে তীব্র সহিংসতার কারণে প্রায় সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে চলে আসে প্রতিবেশী দেশে, তাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ
সরকার তৈরি করে মানবিকতার দৃষ্ঠান্ত।

বিশ্ব স্বীকৃত রোহিঙ্গা মানবিক বিপর্যয়ের শুরু থেকেই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর সম্মান-মর্যাদার প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সরব বাংলাদেশ।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে নতুন পুরাতন সব মিলিয়ে ১১ লাখ আশ্রিত রোহিঙ্গার তালিকা প্রণয়ন করে।

অই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রত্যাবাসনের আলোচনায় বসা মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে প্রথম ধাপে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মায়ানমার কে যাচাই-বাচাইয়ের জন্য হস্তান্তর করার কথা জানিয়ে সম্প্রতি (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যম’কে বলেন, “আমাদের দেওয়া তালিকার মাত্র ৫৮ হাজার রোহিঙ্গা’কে এখন পর্যন্ত মায়ানমার শনাক্ত করেছে।”

তবে মন্ত্রী আরো জানান, মায়ানমারের নতুন সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা শুরু করেছে যা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্র বলছে, গত ১৪ জুন, ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পঞ্চম সভায় সীমিত পরিসরে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে মায়ানমার।

সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের দেওয়া তালিকার মাত্র ৭ শতাংশ রোহিঙ্গা’কে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করার কথা নেপিডো জানালে রোহিঙ্গাদের ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করার আহবান জবাবে জানিয়েছে ঢাকা।

চার বছরেও তালিকার ৯৩ শতাংশ’কে চিনতে বা শনাক্ত না পারা মায়ানমার আদৌ প্রত্যাবাসন শুরু করবে কিনা সেই আস্থা নেই উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গাদের।

নিজ দেশের সামরিক সরকারের প্রতি আস্থা না থাকায় ইতিমধ্যে চাপ প্রয়োগের জন্য বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে “গো হোম” বা “বাড়ি চলো” ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তারা।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শরণার্থী দিবসের আগের দিন প্রত্যাবাসন সহ সাতদফা দাবীতে দশটি ক্যাম্পে হাজারো রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমাবেশে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা অধিকার কর্মী জাফর আহমেদ বলেন, ” আমরা সম্মান নিয়ে আমাদের দেশ মায়ানমারে যেতে চাই। বাংলাদেশ আমাদের মানবিকতা দেখিয়েছে, আমরা কৃতজ্ঞ। তবে, আমরা সামরিক সরকারকে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিশ্বাস করতে পারছি না।”

বিশ্ব মহল যেনো প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের পূর্ণ মর্যাদা দিতে মায়ানমারকে বাধ্য করে সে লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন দল-মত-বিভেদ ভুলে সকল রোহিঙ্গাদের সমন্বিত উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে শংকিত উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরতে চাওয়ার এই উদ্যোগকে।

নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এসব স্থানীয়রাও চান রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং মানবিক এই সংকটের কার্যকরী সমাধান।

সর্বশেষ খবর

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কে সম্মাননা প্রদান করলো ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি

বার্তা পরিবেশক কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার কে সম্মাননা প্রদান করেছে কক্সবাজার সমিতি ঢাকা। সমিতির পক্ষ থেকে সভাপতি হেলালুদ্দীন আহমেদ কমোডর...

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে কুতুবদিয়া আ.লীগের প্রস্তুতি সভা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি : আগামী ৭ডিসেম্বর কক্সবাজারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জনসভা সফল করার লক্ষ্যে কুতুবদিয়া উপজেলা আ.লীগের উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়...

মাত্র পাঁচ মিনিটেই তছনছ হট ফেভারিট আর্জেন্টিনা, সাফল্যের নেপথ্যে কে?

আসিফুজ্জামান সাজিন: সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রথম ম্যাচেই বড় অঘটনের শিকার আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হাতে যে একটি বিশ্বকাপ শিরোপা সবাই দেখতে চায়, সেটা...

খুটাখালীতে পান ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, ঈদগাঁও: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে বনে ঝাড়ু ফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে বন খেকোদের হামলায় আবদু রশিদ (৫০) নামের এক পান ব্যবসায়ী...