রবিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

লিয়াকত সিনহাকে হত্যা করেছে, আমি নই- আদালতে ওসি প্রদীপ

সানজীদুল আলম সজীব:


দেশের আলোচিত অবঃ মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায়ের সময় নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারী এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে আদালত।

বুধবার যুক্তিতর্ক শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল রায়ের জন্য এই সময় নির্ধারণ করেন।

বুধবার যুক্তিতর্ক চলাকালীন ১০ মিনিট সময় প্রার্থনা করে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ  কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহাকে খুন করেছে পরিদর্শক লিয়াকত। এটা সে স্পষ্ট জানে এবং এবিষয়ে তার প্রতি সদয় বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এজলাস থেকে বেরিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. মোহাম্মদ মোস্তাফা ওসি প্রদীপ অন্যের উপর দায় চাপানোর জন্য শেষ পর্যায়ে এসে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, ওসি প্রদীপের মুটোফোনে নির্দেশের ভিত্তিতে লিয়াকত গুলি চালায় এবং পরে সয়ং ওসি প্রদীপ এসে পা দিয়ে মুখে পাড়া দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ।

এদিকে এজলাস থেকে বেরিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এই পর্যায়ে এসে আদালতে দেয়া ওসি প্রদীপের বক্তব্য আইনের আলোকে গ্রহণ যোগ্য নয়  এবং সন্দেহের উর্ধে উঠে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমানে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তিনজন আসামী নুরুল আমিন ,মোহাম্মদ আয়াস ,নিজামুদ্দিনের আইনজীবী এড. মোহাম্মদ সালাউদ্দীনকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সিনহা হত্যা মামলায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের সবাই বলেছেন, ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে সিনহা হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
জানা গেছে, সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদান শেষে গত ৯ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়। চারদিনের যুক্তিতর্কে প্রত্যেক আসামীদের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এই সময়ে রাষ্ট্রপক্ষে এবং আসামী পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

আরও খবর

Stay Connected

0FansLike
3,132FollowersFollow
19,100SubscribersSubscribe
- test Ad -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ