রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

লবণ চাষীদের নিরব কান্না : লাভের বদলে লোকসানের বিষফোঁড়া

কাব্য সৌরভ, মহেশখালী:

মহেশখালীর ৮০ শতাংশ মানুষ লবণ চাষের সাথে জড়িত। তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন এই লবণ চাষ। প্রতি কানি (৪০ শতক) লবণ উৎপাদনে ব্যয় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা বর্তমান বাজার দরে যার বিক্রিত মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। চলতি বছরে লাভের আশায় অনেকে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে লবণ চাষ শুরু করলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসেও লবণের দাম না বাড়ায় দ্বিগুণ লোকসান নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে মহেশখালীর প্রান্তিক লবণ চাষীদের।

মহেশখালী উত্তর নলবিলা এলাকার লবণ চাষী আবুল হোসেন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, লবণ চাষ তার বাপ দাদার পেশা শৈশব থেকে যৌবন কাটিয়ে দিয়েছে এই পেশায়, এই পেশায় জড়িয়ে আছে মায়া ইচ্ছে থাকার সত্বেও ছাড়তে পারেননি। বর্তমানে প্রতিমণ (৪৪কেজি) লবণ ১২০/১৪০ টাকা প্রতি মণ উৎপাদনে খরচ ২৮০ থেকে ৩’শ টাকা এমতবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা তিনি।

ষাইটমারা এলাকার লবণচাষী মোজাম্মেল জানান, স্থানীয় দালাল’রা প্রতিমণ (৪৪ কেজি) বদলে প্রতিমণে লবণ পরিমাপ করছে ৫৬ থেকে ৬০ কেজি। মণ প্রতি ১০ থেকে ১২ কেজি বাড়িয়ে নেওয়ার প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের লবণ ক্রয় করে না। বোট ভাড়া করে মিলে গিয়ে লবণ বিক্রি করা চাষীদের পক্ষে সম্ভব নয় তাই স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে কোনো চাষী প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী মোঃ বাদশা মিয়া’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

মহেশখালী লবণ চাষী বাঁচাও পরিষদের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম বলেন, কিছু মিল মালিক সিন্ডিকেটের অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে প্রান্তিক চাষী ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও মজুত থাকার পরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার কে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানিতে উৎসাহিত করেছে। প্রান্তিক চাষীদের ন্যায্য মূল্য না দিলে চামড়া শিল্পের মতো লবণ শিল্পও হারিয়ে যাবে।

কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের সূত্র মতে, গত মৌসুমের ৩.৪৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। এবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। এ বছর দেশে লবণের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

বিগত বছর গুলোতে লবণের বাজার দর ছিলো ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মণ প্রতি লবণের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রতি মণ বিক্রি হয় ৩৫০-৪৫০ টাকা। এই অর্থবছরে চাষিরা লাভের মুখ দেখায় চলতি মৌসুমে লবণ চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে হঠাৎ দাম কমে প্রতি মণ ১২০-১৭০ টাকায় এসে দাঁড়ায়। কিন্তু মাঠে মণ প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২৮০ থেকে ৩’শ টাকা। লবণের দাম এভাবে নিম্নমুখি হলে লবণ চাষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং লবণ চাষের সাথে জড়িত চাষীদের বিরাট একটি অংশ বেকার হয়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সর্বশেষ খবর

উখিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে ২ কিশোরকে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের উখিয়ায় ছাগল চুরির অপবাদে দুই কিশোরকে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি...

মা-বাবাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধরঃ প্রাণ বাঁচাতে ছেলের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে

 টিটিএন ডেস্ক: মায়ের সারা শরীরে হাতুড়ি দিয়ে মারধরের আঘাতের চিহ্ন,ফের হামলার ভয়ে সেই আঘাত নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা। আর কেউ নয় নিজের সন্তানের মারধরে এমন...

খুলনায় নিখোঁজ মরিয়ম মান্নানের মাকে ফরিদপুর থেকে উদ্ধার

টিটিএন ডেস্ক: খুলনার মহেশ্বরপাশায় নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান...

সীতাকুন্ডে বারবকুন্ডে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী র‌্যাবের হাতে আটক

এমরান হোসাইন: সীতাকুন্ডের বারবকুন্ড এলাকায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার অন্যতম প্রধান আসামী দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। ২৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাত আনুমানিক ২ টায় সীতাকুন্ড থানার...