মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৫, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

রামু হামলা: অনাহারে উত্তম বড়ুয়ার পরিবার

শিপ্ত বড়ুয়া, রামু(কক্সবাজার)

সন্তান হারানোর ব্যথা কেবল মা বুঝেন। এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো এক পলক দেখতে পারেননি নিজের সন্তানকে। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সে খবরটিও পাননি। বলছি ২০১২ সালে রামুতে সাম্প্রদায়িক হামলায় যার ফেসবুক একাউন্টের ছবি ট্যাগ করাকে কেন্দ্র করে হামলা হয় সে উত্তম বড়ুয়ার কথা।

২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির হামলার দিন থেকে নিঁখোজ উত্তম বড়ুয়া। উত্তম বড়ুয়া’র ফেসবুক প্রোফাইলে ধর্ম অবমাননাকর একটি ছবি ট্যাগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় প্রায় ১৯টি প্রাচীণ বৌদ্ধ মন্দির ও প্রায় ২৬টি বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি। রামুতে সাম্প্রদায়িক এই হামলার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিলো উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বৌদ্ধ পল্লীগুলোতেও।

সোমবার রামু উপজেলার হাইটুপি গ্রামে উত্তম বড়ুয়া’র বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় উত্তম বড়ুয়ার বাবা সুদত্ত বড়ুয়া ও মা মাধু বড়ুয়া ঘরে বসে আছেন। সুদত্ত বড়ুয়া বয়সের ভারে ও শ্বাসকষ্টের কারণে কাজকর্ম করতে পারেন না বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। মা মাধু বড়ুয়া পাশের মানুষের বাড়িতে কাজকর্ম করে যা টাকা পায় তা দিয়ে চলছে এই সংসার।

সুদত্ত বড়ুয়া টিটিএনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্বাসকষ্ট রোগী, কোন কাজই করতে পারিনা। তার উপর আমার এক মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার ছেলে উত্তমের দশ বছরেও কোন সন্ধান পেলাম না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবী, মৃত অথবা জীবিত আমার ছেলেকে আমি ফেরত চাই।

২০১২ সালের মন্দির হামলা ও বৌদ্ধদের ঘরবাড়ি হামলার ঘটনার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা স্থানীয়দের নানান সহযোগিতা দিলেও কোন প্রকার সহযোগিতা পাননি উত্তম বড়ুয়ার পরিবার। বরং গত পাঁচবছরে ২৯ সেপ্টেম্বর আসলে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে ঘৃণার চোখ রাঙানি দেখতে হয় পরিবারটির।

এসব কথা জানিয়ে উত্তম বড়ুয়া’র মা মাধু বড়ুয়া জানান, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত নয়টায় যখন আমার বাড়িতে পুলিশ আসে তখন আমি উত্তম বড়ুয়াকে ফোন দিই। জিজ্ঞেস করি তুই কি করেছিস? আমার বাড়িতে পুলিশ কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে সেদিন আমার ছেলে আমাকে মোবাইলে বলেছিলো আমি কিছু করিনি মা! আমি নির্দোষ।

এরপর রামু থানা পুলিশ আটক করে পুরো পরিবারকে থানায় নিয়ে যায়। সেদিনের পর থেকে উত্তম বড়ুয়া’র সাথে কোন কথা ও দেখা হয়নি মা মাধু বড়ুয়ার বলে জানান তিনি।

উত্তম বড়ুয়া’র স্ত্রী ও এক পুত্র থাকেন রামু’র মেরংলোয়ার একটি ভাড়া বাসায়। একমাত্র পুত্র এখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। বারবার যোগাযোগের পরেও উত্তম বড়ুয়া’র স্ত্রী ও পুত্রের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উত্তমের মা মাধু বড়ুয়া আরও বলেন, গত দশটি বছর কিভাবে কাঁটয়েছি সে খবর কেউ রাখেনি। ২৯ সেপ্টেম্বর আসলে শুধু সাংবাদিকরা আসে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমার বুকের ধন উত্তমকে খুঁজে দেওয়া হোক।

দীর্ঘ এক দশকেও উত্তম বড়ুয়া’র কোন খোঁজ না মেলায় স্থানীয় বৌদ্ধ নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ যুব পরিষদের সভাপতি কেতন বড়ুয়া বলেন, খুব কষ্টের মধ্যে আছে উত্তম বড়ুয়া’র পুরো পরিবার। রামুতে হামলার পর কম বেশি ক্ষতিগ্রস্তরা সহযোগিতা পেলেও কোন সহযোগিতা পায়নি পরিবারটি। সরকারের কাছে আবেদন স্থায়ী কোন সহযোগিতা উত্তম বড়ুয়া’র পরিবার পেলে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

এদিকে, সম্প্রতি স্থানীয়দের মুখে উত্তম বড়ুয়া’র বেঁচে থাকার কথাও শুনেছেন বলে জানান মাধু বড়ুয়া। ভারত বা ফ্রান্সে থাকার কথা বিভিন্ন লোক মাধু বড়ুয়াকে জানিয়েছেন বলেন তিনি। তবে তা কেবল শোনা কথা বলে দাবী তাঁর।

রামু হামলার দীর্ঘ এক দশক পরেও মা-বাবা বুক বেঁধে আছেন সন্তানের অপেক্ষায়। অনাহারে অর্ধাহারে চলছে দুঃখভরা সংসারটি। ফিরবে কি উত্তম বড়ুয়া? এক দশক পর হলেও চিরতরে দুঃখ মুছবে অসহায় পরিবারটির? প্রতীক্ষা সকলের।

সর্বশেষ খবর

তুমব্রু সীমান্তে মাদক কারবারিদের গুলিতে ডিজিএফআই কর্মকর্তা নিহত

টিটিএন ডেস্কঃ বান্দরবানের তমব্রু সীমান্তে মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ডিজিএফআই-এর এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এসময় র‍্যাবের আরেক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর এক...

সীমান্তে র‌্যাবের সাথে সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলাগুলি : হতাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : নাইক্ষংছড়ির সীমান্তে র‌্যাবের সঙ্গে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় এক রোহিঙ্গা নারী নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত এক র‌্যাব সদস্য। বান্দরবানে...

কুতুবদিয়া থানার নবাগত ওসিকে বরণ ও বিদায়ী ওসিকে সংবর্ধনা অনুষ্টিত

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি : কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে বরণ ও বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দারকে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্টান...

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভার নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম 

রাহুল মহাজন : মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভার নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম। ১৫ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে নতুন ভোটারদের...