শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২১

রামুতে ভোটের ফলাফলে নয়-ছয়, সমভোটে পুনঃনির্বাচন

শিপ্ত বড়ুয়া, রামু:

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে ভোটের ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করেছিলেন। দুইজন প্রার্থী সমভোট পাওয়ায় এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ২৪শে নভেম্বর পুনঃনির্বাচন ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ই নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রামু উপজেলার এগারো ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়। টিটিএন এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১১ই নভেম্বর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ করা হয় পশ্চিম জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ছবি: ১১ই নভেম্বর কেন্দ্র প্রকাশিত ভোটগণনার ফলাফল।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত লিখিত ভোটগণনার বিবরণীতে মোট উপস্থিত ভোট দেখানো হয় ১৮৪৮টি। যেখানে ৪৭টি ভোট অবৈধ বা বাতিল বলেও উল্লেখ আছে। তাহলে ছয়জন সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীর মোট প্রাপ্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০১ টি ভোট।

বিপত্তি বাঁধে এখানেই। একই ভোট গণণার লিখিত বিবরণীতে দেখানো হয়েছে মেম্বার প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৬১ভোট, মফিজুর রহমান ৩৮০ভোট, মো: আরমান ২৩৭ভোট, মো: মিজানুর রহমান ৩৭৩ভোট, রহমত উল্লাহ ৩২৭ভোট, সুলতান আহমেদ ৩৮০ভোট পেয়েছেন। ছয়জন প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৫৮ ভোট। মাঝখানে ৪৩টি বৈধ ভোটের কোন হদিস নেই।

ছবি: রামু উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রদত্ত ফলাফল।

আবার রামু উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের দেওয়া ভোট গণনার ফলাফল সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রকাশিত ভোট গণনার একীভূত বিবরণীতে দেখা যায়, মোট বৈধ ভোটের বিবরণ ১৭৫৮টি যার মধ্যে অবৈধ বা বাতিলকৃত ভোট দেখানো হয়েছে ৯০টি। যেখানে কেন্দ্রে থাকতে দেখানো হয়েছে ৪৭ টি।

ভোটগণনার ফলাফলের তারতম্য নিয়ে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রিসাইডিং অফিসার যে ফলাফল দিয়েছে সেটি সঠিক মনে হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে দু’জন প্রার্থী সমভোট পেয়েছে সে অনুযায়ী ২৪শে নভেম্বর পুনঃভোট হবে।

ছবি: পুনঃভোটের প্রজ্ঞাপন।

কেন্দ্র প্রকাশিত ফলাফল এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া ফলফল খতিয়ে দেখেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খতিয়ে দেখার সুযোগ নাই। কোন প্রার্থী যদি মনে করে আদালতে মামলা করতে পারে। আমাদের কিছু করার নাই।

ভোটগণনা শেষে প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লা মোহাম্মদ শহীদুল আলম স্বাক্ষরিত ভোটগণনার ফলাফল পশ্চিম জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে টাঙানো হয়েছিলো, যা বর্তমানে একজন প্রার্থীর কাছে সংরক্ষিত আছে।

সেদিন দায়িত্ব পালন করা প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ওয়ার্ডের ছয়জন মেম্বারপ্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ভোটের ফলাফল নয়-ছয় হওয়া নিয়ে গুন্জন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বদরোদ্দোজা বলেন, কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে একরকম আবার নির্বাচন অফিসে গিয়ে ফলাফল হয়ে গেছে আরেকরকম। মাঝখানে ৪৩টি ভোট গায়েব হয়ে গেছে। এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন।

সমভোটপ্রাপ্তদের মধ্যে দু’জন হলেন সুলতান আহমেদ ও মফিজুর রহমান। তারা দু’জনই ৩৮০ করে পেয়েছেন। সুলতান আহমেদ বলেন, কেন্দ্রে প্রকাশিত ফলাফল আর নির্বাচন অফিসে প্রকাশিত ফলাফলে তারতম্য আছে। ২৪শে নভেম্বর পুনঃনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। আবারো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এই সংবাদের তথ্য সংগ্রহকালে এই প্রতিবেদকে জোয়ারিয়ানালার একাধিক ভোটার বলেন, আগে এই ফলাফলের নয়-ছয় নিয়ে পরিষ্কার করে জানানো হোক। প্রয়োজনে ভোট পুনঃগণনা করা হোক। এই ফলাফলের বিরুদ্ধে আপিলের কোন সুযোগ না দিয়ে পুনঃনির্বাচন যেনো গ্রহণ করা না হয়।

আরও খবর

Stay Connected

0FansLike
3,044FollowersFollow
18,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ