বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

যে কারণে আজ ‘বাংলাদেশের জন্মদিন’ নয়।

লেখক: আখতারুজ্জামান আজাদ,কবি ও কলামলেখক।

আজ আমাদের স্বাধীনতাদিবস না, আজ আমাদের বিজয়দিবস। স্বাধীনতাদিবস ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের জন্মদিন আজ না, বাংলাদেশ এই দিনে স্বাধীন হয়নি। বাংলাদেশের জন্মদিন ২৬ মার্চ, ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল, ১৭ এপ্রিল সেই সরকার (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করেছিল। মার্চের ২৬ থেকে এপ্রিলের ১০ তারিখ— এই পনেরো দিন দেশে সরকার না থাকলেও মুজিবনগর সরকারই ঐ পনেরো দিনও ছিল মর্মে বৈধতা দেওয়া হয়। এই ধরনের বৈধতাকে বলা হয় ভূতাপেক্ষ বৈধতা বা রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট। কোনো একটা আইন ‘পরে’ পাশ করে সেই আইন ‘আগেও’ কার্যকর ছিল ধরে নেওয়া হলে সেই কার্যকরিতাকে ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ বলে।

ঐ সরকারের অধীনে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে ‘দেশ স্বাধীন’ করেননি। বরং দেশকে পাকিস্তানিদের কবল থেকে ‘দখলমুক্ত’ করে ‘বিজয়’ অর্জন করেছেন। দেশ মার্চের ২৬ তারিখ থেকেই স্বাধীন। মার্চের ২৬ তারিখ থেকেই এই ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ, পূর্ব পাকিস্তান না (২৫ মার্চ পর্যন্ত এই ভূখণ্ড পূর্ব পাকিস্তান ছিল)। মুক্তিযুদ্ধ যদি এখনও চলত, আমরা যদি দখলদারমুক্ত হতে না পারতাম; তা হলে আমাদের একটা স্বাধীনতাদিবস (২৬ মার্চ) থাকত, আমরা কাগজে-কলমে ও মনে-মনে স্বাধীন থাকতাম; কিন্তু পাকিস্তানেরই অনুগত থাকতে হতো, বিভিন্ন রাষ্ট্রের দ্বারে-দ্বারে এখনও ঘুরতে হতো স্বীকৃতির জন্য।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘পূর্ব পাকিস্তান’-এ হামলা করেনি, হামলা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর। একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ‘পশ্চিম পাকিস্তান’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করিনি, লড়াই করেছি ‘পাকিস্তান’-এর বিরুদ্ধে। কারণ ২৬ মার্চের পর থেকে পাকিস্তানের পূর্ব বা পশ্চিম শাখা বলে কিছু ছিল না। পূর্ব শাখাটি হয়ে গিয়েছিল ‘বাংলাদেশ’ আর পশ্চিমটি শুধুই ‘পাকিস্তান’।

১৬ ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের জন্মদিন মনে করা কিংবা বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয়েছিল ভাবার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকালীন নয়মাস আমরা পাকিস্তানিই ছিলাম, মুজিব-তাজউদ্দিন-নজরুল সরকার অবৈধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা অহেতুক এবং এই যে মানবতাবিরোধী ছয়জন অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হলো, ঐ ফাঁসিও অবৈধ। কারণ যে আইনে আমরা তাদের বিচার করেছি, ঐ আইনে কেবল বাংলাদেশীদেরই বিচার হওয়া সম্ভব, অন্যদেশীদের না। ঐ অপরাধীরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর সময়টায় এই ভূখণ্ডকে বাংলাদেশ ভাবা না হলে, পূর্ব পাকিস্তান ভাবা হলে এই আইনে ওদের বিচার হওয়া সম্ভব না।

অতএব ১৬ ডিসেম্বর ফেসবুকে ‘শুভ জন্মদিন, বাংলাদেশ’ কিংবা ‘এইচবিডি, বিডি’ লেখার কোনো সুযোগ নেই। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্মদিন— এটা একটা মিথ্যাচার, এটা একটা ফাঁদ, এটা একটা টোপ। সত্যটা জানতে হবে।

সর্বশেষ খবর

রামুর গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পূর্বজুমছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া যুবকের নাম...

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি করছে সরকারের ইজিপিপি প্রকল্প- উখিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

শামিমুল ইসলাম ফয়সাল, উখিয়া: রোহিঙ্গাদের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি সচল রাখার পাশাপাশি কর্মস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে সরকারের অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)...

জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিটিএন ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশে-মিয়ানমার জিরো পয়েন্টে যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছিল, তা এখন আর নেই। কিছু রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। তবে...

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা- রামুতে মাহাবুবুল হক মুকুল

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী: বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা। বাঙালীর জন্য মমত্ববোধ ভালোবাসা দেখিয়ে, কৃষক-শ্রমিকের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন। বাংলার কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ...