শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

যেভাবে ধরা পড়লেন রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরীর দুই দালাল

কাব্য সৌরভ:

মিয়ানমারের মংডু এলাকার মোহাম্মদ ঈসমাইল। ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরী করে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেই সময়ে তাকে পাসপোর্ট তৈরী করতে সহযোগিতা করেন মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকার সালেহ নূর ও তার সহযোগী এরশাদুর রহমান।

গত এক দশকেও বিষয়টি কেউ আঁচ করতে না পারলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। বাবার পথে হাঁটতে গিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরী করার সময় আটক হয় রোহিঙ্গা ঈসমাইলের মেয়ে অহিদা।

অহিদা আটকের পর তার পরিবারের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরীর দালাল এরশাদ ও সালেহ নূরের তথ্য। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশেন (পিবিআই) এর তদন্তে বিষয়টি উঠে আসে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্টো শাখার পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে মাতারবাড়ি এলাকার সালেহ নূর ও এরশাদকে আটক করা হয়। পরে শনিবার টিটিএনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আবু জাফর মোহম্মদ ওমর ফারুক জানান, পাসপোর্ট আবেদনকারী অহিদা নামে এক রোহিঙ্গা নারী তার সহযোগী সিরাজুল ইসলামের সহায়তায় জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট তৈরি করতে যান ২০১৯ সালের নভেম্বরে। এ সময় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিল না হওয়ায় ধরা পড়েন তারা।

পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে জালিয়াত চক্রের আদ্যোপান্ত।

পিবিআই মামলাটি তদন্তের সময় পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অহিদার বাবা মিয়ানমারের মংডু এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইল ২০১২ সালে বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরি করে সৌদি আরব চলে যান। পাসপোর্ট তৈরির সময় তিনি যোগাযোগের জন্য জরুরি নাম্বার হিসেবে এরশাদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দেন। সেই নাম্বারের সূত্র ধরে জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে পিবিআই।
পরে জাতীয় পরিচয় পত্রের সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার মাতারবাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাছুয়াখালীর জনৈক সৈয়দ নূরের ছেলে এরশাদুর রহমান (৩০) ও মাতারবাড়ির সাতঘরপাড়া এলাকার জাফর আহমেদের ছেলে সালেহ নুর (৩৪)।

জানা গেছে, এরশাদ ও সালেহ নূর পাসপোর্ট দালাল চক্রের সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরী করতে সহযোগিতা করেন তারা। বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

এরমধ্যে সালেহ নূর ২০১২ সালে মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন রোহিঙ্গা নাগরিকের নামে ভূয়া বাংলাদেশী জন্ম সনদ তৈরি করেন। সেই জন্মসনদ নিয়ে পরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরী করেন রোহিঙ্গারা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরশাদ ও সালেহ নূর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান পিবিআইয়ের কর্মকর্তা আবু জাফর মোহম্মদ ওমর ফারুক। এই চক্রে কারা কারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর

মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত -১, আহত ১ জনের অবস্থা আশংকাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে সড়ক দুর্ঘটনায় মামুনুর রশীদ চৌধুরী নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। দূর্ঘটনায় মো: হাসান নামের একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (...

বাহারছড়ায় নারী এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শাহেদ হোছাইন মুবিন : কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহার ছড়া এলাকায় নিশাত আহম্মেদ নামের এক নারী এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উন্নয়ন সংস্থা...

একাত্তরের পরাজিতরা আজও বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করছে- রামুতে এমপি বাবু

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী: একাত্তরের পরাজিত শত্রু ও তাদের অনুসারীরা আজও আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তাদের আর জায়গা নেই। তারা পঙ্গু হয়ে...

টেকনাফে ২৪ লাখ টাকায় বিক্রি হলো ২০০ মন মাছ

মোহাম্মদ নোমান, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বঙ্গোপসাগরের জেলেদের জালে প্রায় ২০২ মণ উলুয়া মাছ ধরা পড়েছে, বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকায়। ধরা পড়া প্রতিটি...