রবিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

মাস্ক বিহীন পৃথিবীর অপেক্ষায়

সানজিদুল আলম সজিব:

আজকের ভোর টা ছিলো একটু অন্য রকম। ৫৪৪ দিনের চিরায়ত রুপ ভেঙে সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জেগে শত ব্যস্ততায় খেয়ে না খেয়ে চোখ মুছতে মুছতে জ্ঞানের ঝুলি কাধে ইস্কুলে পৌছানো। যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। ঠিক যেন ঈদের সকালে নতুন কাপড় পড়ে ঈদগাহ যাওয়া।

একদিন, দুদিন, তিনদিন নয় এক এক করে টানা ৫৪৪ দিন। যেখানে প্রতিদিন যাওয়ার ফলে একটি একঘেয়েমি কাজ করতো সেখানে ১৮ মাস পর যাওয়া৷ গতরাত থেকে প্রস্তুতি, বই খাতা, স্কুলের পোশাক সব কিছু ঠিকঠাক। রাত জেগে গেইমিং কিংবা ফেইসবুকিং চলবে না৷ কারণ ভোরে উঠা লাগবে৷ সবকিছু বিবেচনা এক অন্যরকম সকাল।

কিন্তু এবার স্কুলের নির্দিষ্ট পরিধেয়র সাথে নতুন সংযোজন মাস্ক। যা বর্তমানে বাধ্যতামূলক পরিধেয়।
স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকতেই পিস্তল সমেত বস্ত দিয়ে তাপমাত্রা নির্ণয়, তারপর জীবাণুনাশক ব্যবহার করে স্কুলে প্রবেশ করা।

ইস্কুলের মাস্টার মশায় যেন মুখ ছেয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের । তিনি কতদিন তার সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের চাঁদ মুখ টুকু দেখছেন না৷ আর শিক্ষার্থীদের ও কতদিন মাস্টার মশাই এর আশীর্বাদ মোড়ানো বেতের বারি খাওয়া হয় না।
সেই আবেগ মোড়ানো স্কুল প্রাঙ্গণ, মাকড়সার জালে জড়ানো ক্লাস রুম, ধুলোমাখা বেঞ্চি, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বসে থাকা ওয়াশরুম, চিরচেনা খেলার মাঠ, জহুর চাচার কেন্টিনের সিঙাড়া সহ সবার সাথে দেখা হবে৷ আর দারোয়ান চাচা যেনো প্রাণ ফিরে পেলো প্রিয় মুখ গুলোকে নিরাপত্তা দিতে পেরে। তবে সেখানে অনেক চেনা মুখ হারিয়ে গিয়েছে সময়ের স্রোতে৷

আবারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ক্লাস-আড্ডার সেই পুরনো ছন্দে শিক্ষার্থীরা। লম্বা বিরতির পর শুরুর ক্ষণটা পরিণত হয়েছে আনন্দ আয়োজনে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের চোখে-মুখে তৃপ্ততার অনুভূতি।

একটু পিছু ফিরে যাওয়া যাক গত বছরের জুন-জুলাই দিকের কথা, পৃথিবী জুড়ে তখন চলছে অনুজীবের ভয়ানক রাজত্ব । পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞান তখন হুমড়ি খাচ্ছিলো, তখন মধ্যমায়ের দেশের ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে ভাবছিলাম আমরা এই অনুজীবের প্রতিষেধক আদো পাবো কী, কিংবা কখন পাবো। কখন আমরা প্রাণ খুলে শ্বাস নিবো?

দীর্ঘ দেড় বছর চললো অঘোষিত যুদ্ধ, সারা পৃথিবীর যুদ্ধ, বিশ্ব যুদ্ধ বললেও কম হবে না৷ কোন মানুষ কিংবা কোন দেশের বিরুদ্ধে নয়। এক অদৃশ্য অনুজীবের সাথে যুদ্ধ। যে যুদ্ধ বাংলাদেশও মোকাবিলা করছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর পৃথিবী পেলো করোনা প্রতিষেধক কিন্তু তখনও ছিলাম সংশয়ে! আমরা কী পাবো প্রতিষেধক? হাজারো সমালোচনার শেকড় উপড়িয়ে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক পৌঁছালো গনমানুষের কাছে৷ যেখানে নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আবারো আলো আসবে পৃথিবীতে। একটি মাস্ক বিহীন পৃথিবীর অপেক্ষায়।

সানজীদুল আলম সজীব
শিক্ষার্থী
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার।

আরও খবর

Stay Connected

0FansLike
3,134FollowersFollow
19,100SubscribersSubscribe
- test Ad -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ