বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

মংডুর পাঁচ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা

ইফতিয়াজ নুর নিশান :

সামারিক জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য।

মাস খানেক ধরে চলা এই সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলেও। প্রতিনিয়ত গোলাবারুদের শব্দে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা, আবারো বড় পরিসরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শংকাও দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে , বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি -টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলে ওপারে মংডুর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোর প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, উখিয়ার ১৩, ১৪, ১৯ নং সহ সীমান্ত থেকে নিকট দূরত্বের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খোঁজ নিয়ে কমপক্ষে ১০ টি পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে যারা সম্প্রতি মংডু থেকে পালিয়ে এসেছেন।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা দাবি করছেন, জান্তা বাহিনীর পাশাপাশি আরাকান আর্মি যারা রোহিঙ্গাদের কাছে মগবাহিনী হিসেবে পরিচিত তারাও মংডুর রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।

গত রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে থাইংখালীর ১৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মীয়ের বাড়িতে পরিবারের ৬সদস্য কে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের সাদেক হোসেন (৪৫)।

তিনি বলেন, ” একদিকে মিলিটারি অন্যদিকে মগবাহিনী,দুই দলই রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণ করছে। মৃত্যু কে খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি, প্রাণে বাঁচতে এখানে পালিয়ে এসেছি।”

সাদেক আরো জানান, “আমার গ্রামের আরো ৪০০-৫০০ জন সীমান্তে অপেক্ষা করছে সুযোগ বুঝে এখানে চলে আসার জন্য।”

১৯ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-১৬ ব্লকের মাঝি আবুল
কাশেম বলেন, ” মংডু থেকে ৬ টি পরিবার আমার ব্লকে এসেছে। আমরা সে তথ্য সিআইসি অফিসে জানিয়েছি।”

কুতুপালং ১নং-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা রোহিঙ্গা অধিকার কর্মী ইউসুফ বলেন, ” রাখাইনের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে, নিপীড়নের মধ্যেও সেখানে বাস করছে ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। যারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। মংডু টাউনে ক্যাম্প বানিয়েছে জান্তা সরকার, নির্যাতনের জন্যে সেখানে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে তারা।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ” অনেকের আত্মীয় স্বজনরা ওপার থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, তারা এখানে আশ্রয় চাইছে। সেখানকার অবস্থা মোটেও ভালো না, আরকান কে রোহিঙ্গা শূন্য করতে চায় মিলিটারিরা।”

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ” শুনেছি মংডু থেকে পালিয়ে কয়েকটি পরিবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছে। তাদের ব্যাপারে করণীয় পদক্ষেপ নিতে আলোচনা হচ্ছে।” নতুন করে কোন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দিতে নির্দেশনা আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবি এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, “সীমান্ত কে সুরক্ষিত এবং নিরাপদ থাকতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ যাতে ঘটতে না পারে আমরা সেদিকেও কড়া নজর রাখছি।”

সাড়ে সাত লাখের ও অধিক রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের শিকার হয়ে সীমান্তে জড়ো হলে বাংলাদেশ তাদের মানবিক আশ্রয় দেয়।

সর্বশেষ খবর

ঈদগাঁওতে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঈদগাঁও : কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকালে ইসলামাবাদস্থ শাহ ফকির বাজারে এ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাঁও থানার...

বিশ্বে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছাবে বাংলাদেশ -নিসচার সভায় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

রাহুল মহাজন: বাংলাদেশ রোড সেফটি কোয়ালিশন মেম্বারদের সাথে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কক্সবাজার জেলা শাখার এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কয়েকটি দেশের নিরাপদ সড়ক...

কক্সবাজারে ৩১ হাজার পরিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে এসএসসি পরিক্ষায়

আফিফা উলফা : ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। গত ১৯ জুন পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও তা বন্যা পরিস্থিতির কারনে স্থগিত...

এই বিশ্বকাপ নয়, আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী বিশ্বকাপ: পাপন

টিটিএন ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন শুরুর আভাস দিয়ে এশিয়া কাপ খেলতে দুবাই গিয়েছিল টাইগাররা। আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার কাছে টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই...