শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামে বিদেশি বন্ধুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে। আজকের এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালি জাতিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস। দেশের সব শ্রেণি-পেশার লোক জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তান বাহিনীর হাত থেকে দেশমাতৃকাকে রক্ষার তাগিদে। এ যুদ্ধে অংশ নিয়ে ৩০ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেয় সমানতালে।
তাই তো স্বাধীনতা অর্জনে ২ লাখ মা-বোনকে হারাতে হয়েছে সম্ভম। এত ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত আজকের বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতা অর্জনে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশি কিছু বন্ধু তাদের অকৃত্রিম সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন যুদ্ধের শুরু থেকেই। তাদের সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়তো আরও কঠিন হতো। বিদেশি এই বন্ধুরা বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে গেছেনে প্রত্যক্ষভাবে আবার কেউ পরোক্ষভাবে। কেউ খাদ্য সহায়তা দিয়ে, কেউ আশ্রয় দিয়ে, কেউ বিশ্ব দরবারে জনমত তৈরি করে, গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে, কলম হাতে লেখনীর মাধ্যমে আবার কেউ বা পাকিস্তানী হানাদারদের নির্মম অত্যাচারের স্থির চিত্র ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের আসল চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। নতুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে দেশের সব মানুষের তাদের এই অকৃত্রিম অবদানের কথা জানা জরুরি। আজীবন বাঙালি জাতির তাদের প্রতি
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা কর্তব্য।

ইন্দিরা গান্ধী :
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে মুক্তিযুদ্ধের ধাত্রী বলা হয়ে থাকে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান হানাদারদের পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি লোক আশ্রয় নেয় ভারতে। সে সময় ইন্দিরা গান্ধী এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। এ ছাড়াও বিশে^র বিভিন দেশে ঘুরে বাংলাদেশের জন্য সমর্থক জুগিয়েছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেছেন মূলত বাংলাদেশকে রক্ষার তাগিদেই। তার এই অবদান কোনো কিছুর বিনিময়ে শেষ হওয়ার নয়। তাই বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে তাকে।

জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্কর :
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত প্রায় সব বাঙালি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের নির্যাতন শুরু হলে ভারতের সেতার সম্রাট খ্যাত রবিশঙ্কর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে নিজের ভেতর তাগিদ অনুভব করলেন। ঠিক করলেন বাদ্যযন্ত্রের দ্বারা সঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবেন। সে সময় তার সঙ্গে যুক্ত হলেন বিখ্যাত বিটলস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। মহান এ দুজন ব্যক্তির উদ্যোগে ১৯৭১ সালে ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে প্রায় ৪০ হাজার দর্শক নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক এক কনসার্ট। বিখ্যাত এ কনসার্টে একের পর এক গেয়েছেন বব ডিলান, লিওন রাসেল, রিঙ্গো স্টারসহ আরও অনেকে। সবশেষে জর্জ হ্যারিসন গাইলেন বিখ্যাত বাংলাদেশ গানটি। যা ইতিহাসে স্মরণীয় এক গানে পরিণত হয়েছে। রবিশঙ্কর ও হ্যারিসনের উদ্যোগে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামক এই কনসার্ট হতে প্রাপ্ত প্রায় ২ কোটি ৪৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ইউনিসেফের মাধ্যমে ভারতে আশ্রিত ১ কোটি শরণার্থীদের সাহায্য ব্যয় করা হয়।

ডব্লিউএএস ওডারল্যান্ড :
যতদিন রবে বাঙালি জাতি ততদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বিদেশি বন্ধু ওডারল্যান্ডকে। কেননা একজন বিদেশি হয়েও তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়। ১৯৭০ সালের শেষদিকে তিনি বাটা স্যু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ঢাকায় আসেন। ২৫ মার্চের ভয়াবহতা তিনি লুকিয়ে দেখেন এবং অসহ্য নির্যাতনের কিছু স্তির চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। পাকিস্তানিদের ভয়াবহ নির্যাতন নিপীড়ন দেখে তিনি অবস্থান নেন হানাদারদের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সে টঙ্গীতে অবস্থিত বাটা কোম্পানির ভেতর গোপনে গেরিলা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। মুক্তিবাহিনীর ২ নম্বর সেক্টরে অংশ নিয়ে টঙ্গী ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি গেরিলা হামলায়ও অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ ছাড়াও যুদ্ধ চলাকালীন তিনি ওষুধ ও খাদ্য দিয়ে সহায়তা করেন বাংলাদেশকে। তার এ অসামান্য অবদানকে স্বীকৃত দিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশেই বসবাস করতেন ওডারল্যান্ড।

সায়মন ড্রিং :
যুদ্ধে অবদান রাখা অন্যতম আরও একজন বিদেশি বন্ধু সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। প্রথম বিদেশি সাংবাদিক যিনি প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের গণহত্যা সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করেন। কলম আর ক্যামেরার হাতে তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন এ দেশের মুক্তিকামীদের পক্ষে। যুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পরে বিদেশি সাংবাদিকদের দেশে আসার অনুমতি দেন পাকিস্তান বাহিনী। সায়মন তাদের মধ্যে অন্যতম। সে সময় তিনি পাকিস্তান হানাদারদের বর্বর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন বিশ^দরবারে। যুদ্ধের পরিস্থিতি তার বিপক্ষে গেলেও তিনি এদেশ ত্যাগ না করে গা ঢাকা দেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। ২৫ মার্চের ভয়াবহতার পর ঢাকা শহরের হত্যা, ধ্বংসের চিত্র নিয়ে চলে যান ব্যাংককে। সেখান থেকে তিনি বিশ^বাসীর সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরেন ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভল্ট ইন পাকিস্তান’ প্রকাশের মাধ্যমে। তার প্রকাশিত খবরই প্রথম বিশ^বাসীকে নাড়া দেয়।

অ্যালেন গিন্সবার্গ :
অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাটা সম্পর্কে সবাই কম বেশি জানি আমরা। মার্কিন কবি অ্যালেন মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলেন তার এই কবিতাটির মাধ্যমে। তার এ কবিতাটি আলোড়ন জোগায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অগণিত সাহিত্যপ্রেমীদের মনে।

সর্বশেষ খবর

মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত -১, আহত ১ জনের অবস্থা আশংকাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে সড়ক দুর্ঘটনায় মামুনুর রশীদ চৌধুরী নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। দূর্ঘটনায় মো: হাসান নামের একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (...

বাহারছড়ায় নারী এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শাহেদ হোছাইন মুবিন : কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহার ছড়া এলাকায় নিশাত আহম্মেদ নামের এক নারী এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উন্নয়ন সংস্থা...

একাত্তরের পরাজিতরা আজও বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করছে- রামুতে এমপি বাবু

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী: একাত্তরের পরাজিত শত্রু ও তাদের অনুসারীরা আজও আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তাদের আর জায়গা নেই। তারা পঙ্গু হয়ে...

টেকনাফে ২৪ লাখ টাকায় বিক্রি হলো ২০০ মন মাছ

মোহাম্মদ নোমান, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বঙ্গোপসাগরের জেলেদের জালে প্রায় ২০২ মণ উলুয়া মাছ ধরা পড়েছে, বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকায়। ধরা পড়া প্রতিটি...