রবিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

প্রতারণা করে ‘বিপিএম ও পিপিএম’ পদক হাতিয়ে নেয় ওসি প্রদীপ- রাষ্ট্রপক্ষ

সানজিদুল আলম সজিব:

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামিদের দেয়া বক্তব্যের ওপর টানা ৪ দিনের যুক্তিতর্কের প্রথম দিনে ৬ আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা হলেন পুলিশের করা হত্যা মামলার স্বাক্ষী নিজামুদ্দিন, আয়াস, নুরুল আমিন, এপিবিএন এর তিন সদস্য শাহাজাহান, রাজিব হোসাইন, আবদুল্লা আল মাহমুদ।

রোববার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

হত্যাকান্ডের ঘটনা পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম বলেন রাষ্টপক্ষ সন্দেহাতিত ভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। ওসি প্রদীপ এবং লিয়াকত আলীর উপস্থিতিতে প্রত্যক্ষ এবং পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে যা আদালত উপস্থাপিত হয়েছে। ১২ জানুয়ারির মধ্যে যুক্ততর্ক শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই আইনজীবী।

মামলার রায়ে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তথা বিপিএম পিপিএম পদক যেনো বাতিলের আদেশ থাকে আদালতে তার আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, রাষ্ট্রের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রদীপ প্রতারণা করে এসব পদক হাতিয়ে নিয়েছে।

যুক্তিতর্ক শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী, এড. রানা দাশ গুপ্ত বলেন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

চারদিনের এই যুক্তিতর্ক চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। যুক্তিতর্ক উপলক্ষে রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, গেল বছর ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে খুন হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান।

এ ঘটনার ৫ দিন পর ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান র‍্যাব।

চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্তের পর ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২৭ জুন ১৫ আসামির বিরুদ্ধে মামলাটির বিচারের জন্য অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর গত ২৩ আগস্ট কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমালের আদালতে স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা শুরু হয়ে শেষ হয় গত ১ ডিসেম্বর যেখানে ৬৫ জন স্বাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।ক্ষে রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়।

আরও খবর

Stay Connected

0FansLike
3,134FollowersFollow
19,100SubscribersSubscribe
- test Ad -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ