সোমবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা

টিটিএন ডেস্ক:

এবারের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা একটি অদ্ভূত দল হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে তুলেছে। সেটা শুধু যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে জন্য নয়, তাদের শুরু এবং শেষের এমন বিস্ময়কর মিল-অমিল দেখলে এ কথাটা যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন।

১৭০ রান করার পর শ্রীলঙ্কা যে কঠিন লড়াই করবে, সেটা বোঝাই গিয়েছিল। কিন্তু বল হাতে শুরুটা কী করেছিলেন দিলশান মধুশঙ্কা? টানা ৫টি নো এবং ওয়াইড বল। একটিও বৈধ বল হওয়ার আগে দিলেন ৯ রান।

প্রায় সবাই বলাবলি শুরু করেছিল, এত বাজে বোলিং দিয়ে শুরু করার পর ১৭০ রান কেন, ২০০ রানও তো রক্ষা হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু ম্যাচ শেষে কী দেখা গেলো? জয়ী দলটির নাম শ্রীলঙ্কা। শুরু আর শেষের এমন অদূভত অমিল কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়েই লঙ্কানদের পাশে দেখা যাচ্ছিল।

প্রথম ওভারে মধুশঙ্কা কোনো বল ছাড়াই ৯ রান দেয়ার পর ওভারের বাকি ৬ বলে পাকিস্তানের দুই ওপেনার বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান নিতে পারলেন কেবল ৩ রান। পুরো ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল মোটে ১২ রান।

এভাবে পুরো ম্যাচেই সুবর্ণ সুযোগগুলো হয়েছে তাদের হাতছাড়া। যার ফলশ্রুতিতে টপ ফেবারিট হয়েও শিরোপা জিততে পারলো না পাকিস্তানিরা এবং পুরোপুরি ডার্কহর্স হিসেবে খেলতে এসে লঙ্কানরা চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো শ্রীলঙ্কা।

আজ ফাইনালের পুরো ম্যাচটার কথাই ধরুন! শুরুতেই টস ভাগ্য গিয়েছিল পাকিস্তানের দিকে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জয় মানেই ম্যাচ জয়- এটা একেবারে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত ২২টি ম্যাচের মধ্যে কেবল চারটিতে প্রথম ব্যাট করা দল জয় পেয়েছে, হেরেছে শেষে ব্যাট করা দল। সর্বশেষ দলটি হলো পাকিস্তান।

ফাইনাল হলে তো কথাই নেই, টস জয় মানেই ম্যাচ জয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা আইপিএল- যাই বলুন না কেন। এই এশিয়া কাপেও এই মাঠে ফাইনালের আগে যতগুলো ম্যাচ হয়েছে, প্রতিটিতেই জিতেছে টসজয়ী দল।

কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালে কী ঘটলো? টস জিতেও এর সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। বরং, তাদের অসংখ্য ভুলেরর সুযোগটা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে শ্রীলঙ্কা এবং শিরোপা জয় করে নিয়েছে।

এবার আসুন চোখ ফেরাই ম্যাচের দিকে, নাসিম শাহের দুর্দান্ত বোলিং। প্রথম ওভারেই কুশল মেন্ডিসের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে শুরু পাকিস্তানের। এরপর পাথুম নিশঙ্কাকে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দেয়ার পর দানুসকা গুনাথি

লাকার উইকেট যেভাবে উপড়ে ফেলেছিলেন হারিস রউফ, তাতে মনে হয়েছিল আজ বুঝি পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াতেই পারবে না শ্রীলঙ্কা।

৫৮ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর তো এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু এরপরই দাঁড়িয়ে যান ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা এবং ভানুকা রাজাপাকসে। ম্যাচ যেন ভোজবাজির মত ঘুরে গেলো শ্রীলঙ্কার দিকে।

এর মধ্যে পাকিস্তানি ফিল্ডারদের একের পর এক মিস ফিল্ডিং তো আছেই।

নাসিম শাহ ক্যাচ মিস করেন, বাউন্ডারির সামনে দাঁড়িয়ে আসিফ আলি ক্যাচ ধরতে যান, সেখানে গিয়ে ধাক্কা দেন শাদাব খান, শেষের দিকে লুজ বোলিং- যেখানে প্রথম ১০-১২ ওভার পুরোপুরি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রনে, শ্রীলঙ্কার রান ১০০’ও হয় কি না চিন্তা ছিল- সেখানে ম্যাচ তো লঙ্কানরা বের করেছেই। উল্টো শেষ মুহূর্তে ১৭০ রান করে ম্যাচটে পুরোপুরি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

এরপর বোলিংয়ের শুরুতে পুরোপুরি এলোমেলো শ্রীলঙ্কা। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাকিস্তানের রান আটকে রাখে এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট ফেলতে থাকে তারা। যার গতি বেড়েছিল শেষ মুহূর্তে এসে। অথচ, লঙ্কানদের শুরুর এলোমেলো পরিস্থিতির সুযোগটা নিতে পারতো পাকিস্তান। এমনকি ফাইনালের মত ম্যাচে এ ধরনের সুযোগই নিয়ে থাকে যে কেউ।

এবার যদি পুরো টুর্নামেন্টের কথা বলি, তাহলে তো বলতে হয় শ্রীলঙ্কা স্রেফ মিরাকলই ঘটিয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তানের। ওই ম্যাচে আফগানদের বোলিংয়ের সামনে ১০৫ রানে অলআউট তারা। আফগানরা ৮ উইকেটে জিতেছিল মাত্র ১০.১ ওভার ব্যাট করে।

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট শেষ হয়ে গেলো, শেষ হয়ে গেলো বলে রব উঠলো। অথচ, পরের ম্যাচ নিয়ে দাসুন শানাকা বললেন, বাংলাদেশ সহজ প্রতিপক্ষ। তার এ বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে কী তুমুল সমালোচনা! খোদ টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন মন্তব্য করলেন, বাংলাদেশের ব্যাটারদের আউট করে সে মানের বোলার শ্রীলঙ্কার আছে নাকি!

জবাব দিয়েছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। টুইটারে নিজ দেশের বোলারদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, সময় এসেছে তোমাদের নিজেদের দেখিয়ে দেয়ার। তোমরা দেখিয়ে দাও।

জয়াবর্ধনের এ আওয়াজ বেশ ভালোভাবেই দাসুন শানাকাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেছিল। পরের ম্যাচে বাংলাদেশের ১৮৩ রানকে টপকে শেষ চারে নাম লিখলো তারা। এরপর একে একে আফগানিস্তান, ভারত এবং পাকিস্তানকে হারিয়ে পা রাখে ফাইনালে।

অথচ, শুরুর সাথে তাদের শেষের কত অমিল! চরম হতাশা দিয়ে শুরু, শেষটা হলো চূড়ান্ত সাফল্য দিয়ে। টুর্নামেন্টের শুরুতে যেমন, ফাইনালের শুরুতেও তেমন। টুর্নামেন্টের শেষ এবং ফাইনালের শেষ তো হলো তাদের বিজয়ের মুকুট পরেই।

সর্বশেষ খবর

জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন

টিটিএন ডেস্ক: জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য  সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজথানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।...

হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি : মানবিক কাজে সম্মাননা স্মারক প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের উখিয়ার বৃহত্তর রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের ৪র্থ তম বর্ষপূর্তি ও মিলনমেলা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২) মেরিনড্রাইভ...

ঈদগাঁও উপজেলা আ’লীগের প্রথম সম্মেলন সোমবার

শাহিদ মোস্তফা: প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের নব গঠিত ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সোমবার। সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে ইতিপূর্বে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন...

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা : ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ নানান বিষয়ে আলোচনা

শাহেদ হোছাইন মুবিন: কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলনে কক্ষে এ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত...