শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

দুই বছরে দেড় কোটি টাকার সামাজিক বনায়নের প্লট বিক্রিঃ ভাগ যায় বন কর্তাদের পকেটে!

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, ঈদগাঁও :

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জে পাহাড় ও সামাজিক বনায়নের প্লটের মালিক এখন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাদের কাছ থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সরকারি পাহাড় ও সামাজিক বনায়নের রিজার্ভ জমি। পাহাড় ও বনায়নের প্লট দখল করে বিক্রি করেই ইতিমধ্যে অনেকে বিপুল টাকার মালিক বনে গেছে। বিগত দুই বছরে ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিটের অধিনে দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিক্রি করেছে ৪ একর সামাজিক বনায়নের প্লট। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়ি ঘর।

জমি ক্রেতারা জানান, প্রতি এক শতক জমি বিক্রি হয় ৩০ হাজার টাকা থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সেখান থেকে কমিশন হিসেবে বন কর্তাদের পকেটে যায় প্রতি শতকে ১০ হাজার টাকা করে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে কক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিটের অধিনে গজালিয়া উত্তর পাড়াস্থ কোনার পাড়া পুলছুয়া পথ এলাকায়। সরেজমিন এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে শতশত বহিরাগত পরিবার রোহিঙ্গাসহ বসতি স্থাপন করে স্থায়ী ভাবে বসবাস করে আসছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছে, সরকারি রিজার্ভ জমির দাম এখন বেশ চড়া। প্রতি শতক রিজার্ভ জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা করে। ক্ষেত্রবিশেষে বিক্রি হয় ৪৫/৫০ হাজার টাকা করে। সে হিসেবে বিগত দুই বছরে রিজার্ভ জমি বিক্রি হয়েছে ৪ একর (১০ কানি) যার মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। আর ক্রয় বিক্রয়ের তালিকায় আছে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হেলাল ও আবছার নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বনকর্মীরা।

বর্তমানে ফুলছড়ি রেঞ্জে পাহাড়ের ৫% জমিও সরকারের দখলে নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,রাজঘাট বিটের ২০০৫-২০০৬ সালের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা বলেন, সরকার মহৎ উদ্দেশ্যে সামাজিক বনায়নের আওতায় বাগান সৃজন করে উপকারভোগী নির্বাচন করে ১০ টি সামাজিক বনায়নের প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল।পরবর্তীতে এগুলোর মেয়াদ শেষ হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অসহায় দরিদ্র উপকারভোগিদের তাড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেয়।সময়ের পরিবর্তে সেগুলো উচ্চ দামে বিক্রি করে আসছে সংবদ্ধ এ চক্রটি।ঐ সময়ে রাজঘাট মৌজায় প্রায় ৪০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু বনভূমি দখলবাজ-সন্ত্রাসীদের তৎপরতার মুখে সামাজিক বনায়নের মতো বৃহৎ প্রকল্প ভেস্তে যেতে চলেছে।

একইভাবে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীনস্থ খুটাখালীর তানজুককাটাএলাকা,সবুজ পাহাড়, জুম নগর, নাপিত খালি, পূর্ব নাপিত খালি, হাইস্কুলের পূর্বে, ভিলেজার পাড়া, গজালিয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে পাহাড়ের বনায়নের রিজার্ভ জমি দখল করে বিক্রি হচ্ছে খুবই চড়া দামে আর এসব জমি বিক্রি করার জন্য নিয়মিত কাগজপত্র নিয়ে বসে আছে অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বেদে প্রতি শতকের দাম দেড় লাখ টাকাও। আর কেনা বেচাকারী খোদ স্থানীয় প্রভাবশালীসহ সংঘবদ্ধ কাঠচোর অসাধু বনকর্মীরা ।

এছাড়া স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক রাজনৈতিক পশ্রয়ে সরকারের এসব মূল্যবান সামাজিক বনায়ন এবং পাহাড়ের জমি বিক্রি করছে।এদিকে ফুলছড়ির সামাজিক বনায়ন এখন নিয়মিত দখলে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এক সময়ের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী শিল্পী আজম খাঁন বলেন, সব জমি এখন বাড়ি ঘরে পরিপূর্ণ মাঝে মধ্যে সেখানে জমি দখল নিয়ে মারামারিও হয়। ফুলছড়ির সামাজিক বনায়নে পাহাড় কাটা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে।তারা আরো জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী দখলদারদের কাছে তারা এখন অসহায়।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিটের অধিনে প্রায় ৪০ একর সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ইতিপূর্বে উপকারভোগী নির্বাচন করে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্লট আকারে বরাদ্দ দেয়। সেখানে সামাজিক বনায়নও সৃজিত হয়। কিন্তু দখলবাজ-সন্ত্রাসীরা সামাজিক বনায়নের গাছ উজাড় করে এসব বনভূমি দখলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তৎপরতা চালাচ্ছে। এ কারণে উপকারভোগীরা ধারে-কাছেও ভিড়তে পারছেনা।

ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুল জানান, সামাজিক বনায়নের প্লট বিক্রি করার কোনো নিয়ম নেই। যারা এ কাজে লিপ্ত তাদের চিহ্নিত করে বন আইনের আওতায় আনা হবে। এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। বন কর্তাদের পকেটে টাকা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি দখলদার বাহিনীর অপ-প্রচার, মিডিয়া কর্মীদের কাছ থেকে রেহাই পেতে বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায় এটি মোটেও সত্য নয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ি রেঞ্জে ৯০% জমিই বেদখল হয়ে আছে অনেক আগে থেকে। আর এসব জমিতে বহু আগে থেকে ঘর বাড়ি তৈরি করে নিয়মিত বসবাস করছে মানুষজন। তারাই স্থায়ীভাবে পাহাড়ে বসবাস করে পাহাড় ধ্বংস করছে।

সর্বশেষ খবর

এক সপ্তাহে সাড়ে তিনশো মেঃ টন আবর্জনা অপসারণ করল এক ব্যবসায়ী

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, ঈদগাঁও : কক্সবাজারের প্রাচীনতম বানিজ্যিক ও ব্যস্ততম এলাকা ঈদগাঁও।এই বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রতিদিন নিত্যনতুন...

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে

টিটিএন ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্কের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রেডিসন...

রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যার ১ বছরঃ পরিবারের ২৫ সদস্য কানাডায়

আয়াছুল আলম সিফাত : রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো ২৯ সেপ্টেম্বর। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান মাস্টার মুহিবুল্লাহকে নানান...

পৌর আ’লীগের সভাপতি নজিবুল ইসলামের উদ্যোগে ‘শারদ সন্ধ্যা’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির সাথে মতবিনিময় করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নজিবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রেডিয়েন্ট ফিশ...