রবিবার, নভেম্বর ২০, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম আরেকটি রেলপথ করার চিন্তা আছে

টিটিএন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ দ্রুত হয়েছে। ঢাকা থেকে আরও অল্প সময়ের মধ্যে যাতে রেলে চট্টগ্রামে পৌঁছানো যায়, তার জন্য নতুন একটা রেল লাইনের চিন্তা করছি। এটা আমরা কবর। করোনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপটা আমাদের ওপরে আছে, এটা কমে গেলে এ কাজগুলো করতে পারব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক।

রোববার (২০ নভেম্বর) কর্ণফুলী ড্রাইডক স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ ৫০টি শিল্প এবং অবকাঠামোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল অঞ্চলের চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। শুরুতেই অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুর রহমান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর হাওয়া ভবন নেই। কোনো কাজ পেতে হলে আর এখানে-সেখানে ছোটাছুটি করতে হয় না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন সেই সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার। আপনারা মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করলে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগিতা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে আমরা আন্তর্জাতিক মানের এয়ারপোর্ট করে দিচ্ছি। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী টানেল করে দিচ্ছি। এপারের মানুষ ওপারে যেতে আর অসুবিধা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতা এসেই আমাদের একটাই লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বেসরকারি খাতে শিল্পায়নের জন্য জায়গা দিয়ে সুযোগ করে দেওয়া হয়। শিল্পায়ন এক এলাকায় ভিত্তিক নয়, সারা বাংলাদেশ ব্যাপী করা হয়। শিল্পায়ন করতে গিয়ে তিন ফসলে জমি নষ্ট করা যাবে না। যারা জমি দিবে তাদের পরিবারের সদস্যদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি প্রধান অর্থনীতি, কিন্তু শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ উন্নত হয় না, কর্মসংস্থান হয় না। আমাদের কৃষিও যেমন অব্যাহত রাখতে হবে, পাশাপাশি শিল্পায়ন করতে হবে। সেই চিন্তা করে বেসরকারির সমস্ত খাতকে উন্মুক্ত করে দেই, পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। বেসরকারি খাতে শিল্পায়নের জন্য জায়গা দেওয়া এবং সবধরনের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টিও আমরা করেছিলাম। একটানা ক্ষমতায় আছি বলেই আমরা করতে পেরেছি।

অনুষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে হলে কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি রপ্তানি বাজার খোঁজার পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

জাতির পিতা প্রথম বার মন্ত্রী হওয়ার পর এ অঞ্চলের জন্য শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ এইগুলো তারই (বঙ্গবন্ধু) হাতে শুরু হয়েছিল। আমরা তারই পথ অনুসরণ করে সারা বাংলাদেশব্যাপী শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি, শুধু একটি অঞ্চলভিত্তিক নয়, প্রতিটি অঞ্চলে যাতে হতে পারে।

কৃষিজমি বাঁচাতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কারণ আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের খাবার দিতে হবে। কৃষি নিয়ে গবেষণা করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিল্পায়ন করতে হবে। যত্রতত্র যেন শিল্প গড়ে না ওঠে। আমি দেখেছিলাম, ভালো কৃষি জমি, যেখানে তিনটা ফসল হতো। সেই জমি নষ্ট করে, শিল্প-কারখানা গড়ে দাবি করতো, বিদ্যুৎ দেন, গ্যাস দেন, পানি দেন। এটা সম্ভব না। এই কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি; এখানে-যেখানে শিল্প গড়তে পারবে না। তিন ফসলি জমি কোনো মতে নষ্ট করা যাবে না। পাশাপাশি যে অঞ্চলে শিল্প গড়ে উঠবে, যারা জমি দেবেন, তাদের পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়গুলো অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আগে রাস্তাঘাট ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, উন্নয়ন ছিল না। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকারের চেষ্টার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। পরিকল্পনা রয়েছে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এখান থেকে ৪০ বিলিয়ন সমমূল্যের পণের উৎপাদন ও রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার। গবেষণার মাধ্যমে আমরা ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি, দেশের চরাঞ্চল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি, শিল্পায়নের ব্যবস্থা করেছি। তবে কিছু একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সর্বশেষ খবর

টেকনাফ সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজার) ৫০ টি শিল্প ও অবকাঠামোর টেকনাফ সাবরাং টুরিজম পার্ক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার...

পুড়ে গেছে ১৯ দোকান আর ২৩ বসতবাড়িঃ কুতুবদিয়ার অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে এমপি আশেক

আবুল কাসেম,কুতুবদিয়া: কুতুবদিয়ার বড়ঘোপে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়া ১৯ টি দোকান ও ২৩টি বসতবাড়ির মালিকেরা মানবেতর জিবযাপন করছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় প্রায় ৩...

কুতুবদিয়া অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে উপজেলা বিএনপি

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি : কুতুবদিয়া উপজেলা বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপি। শনিবার বিকালে কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন...

Rohingya resolution adopted at the United Nations: urge to create an environment for repatriation

Asifuzzaman Sajin : The United Nations adopted a unanimous resolution calling on the country to create an environment for the safe and sustainable return of...