বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

‘ক্ষমতায় গেলে মিয়ানমারের বিতর্কিত “নাগরিকত্ব আইন” বাতিল করবে এনইউজি’

আজিম নিহাদ:
মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি) ধীরে ধীরে ক্ষমতা আরোহনের পথে। জোটের শক্ত অবস্থানের কারণে জান্তা সরকার অনেকটা নড়বড়ে। এনইউজি’র প্রত্যাশা তারা শিগগিরই ক্ষমতায় যাবে। ক্ষমতায় গেলে ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিল করে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের চলমান সমস্যার সমাধান করবে হবে বলে দাবী এনইউজি’র মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা অং সে মো’র।
সোমবার (২০ জুন) টিটিএনকে দেওয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা জানান।
এনইউজি’র মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা অং সে মো জানিয়েছেন, মিয়ানমারের অনেক কালো আইন ইতোমধ্যে বাতিলের প্রক্রিয়ায় আছে। রোহিঙ্গাদের জন্য যে আইন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনও বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে এনইউজি। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দেশে তাদের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু হলে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।
বলাবাহুল্য যে, এনইউজিকে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের সিনেটসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দিয়েছে।
সেনা সরকার ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন তৈরী করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। এরফলে ধীরে ধীরে বিতাড়িত হয়ে আসছে তারা। সেই থেকেই সেনা সরকারের নির্যাতনের মুখে কয়েক দফায় ছোট পরিসরে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করলেও ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে৷ রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।কখ
উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিলো দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে তারা নিজদেশ মিয়ানমারে ফেরত যাবে। কিন্তু মিয়ানমারের নানা তালবাহানায় দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে প্রত্যাবাসন।
তবে রোহিঙ্গারা আর এক মুহুর্তও বাংলাদেশে থাকতে চায় না। তারা চায় যেকোনো উপায়ে দ্রুত প্রত্যাবাসন। এতদিন গণমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাদের দাবীগুলো তুলে ধরে আসলেও গত ১৯ জুন তারা ক্যাম্পে ক্যাম্পে সমাবেশ করে, “বাড়ি চলো” ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নিজদেশে ফেরার দাবী তুলে ধরে। প্রত্যাবাসনের জন্য যে ক’টি দাবী তুলে ধরেছিল তারমধ্য অন্যতম দাবী হলো ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করা। তবে ২০১৯ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মাস্টার মুহিবুল্লাহ’র নেতৃত্বে প্রথমবার বিশাল সমাবেশ করেছিল রোহিঙ্গারা।
মুহিবুল্লাহ’র প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের অন্যতম নেতা ডাক্তার জুবাইয়ের ও মাস্টার কামাল জানান, “বাংলাদেশ আমাদেরকে বিপদের সময় আশ্রয় দিয়েছে। আমরা এদেশের সরকার এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু অনেকদিন থেকেছি এখানে, আর নয়। আমরা দ্রুত দেশে ফিরতে চাই। সেখানে আমাদের সম্পদ পড়ে রয়েছে। আমরা আমাদের দেশে গিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।”
ডাক্তার জুবায়য়ের ও কামাল আরে জানান, “১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করলে আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হবে। মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলো যেভাবে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে বেঁচে আছে আমরাও ঠিক সেভাবে বাঁচতে চাই।”
রোহিঙ্গা নেতা নুরুল আমিন জানান, “প্রত্যাবাসন করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে পূণরায় পুর্নবাসন করতে হবে। অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর, রাখাইন রাজ্যে আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রামে ফিরিয়ে দেওয়া এবং মিয়ানমারে নিরপরাধ জনগণের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।”
অং সে মো মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের সরকারে (এনইউজি) একমাত্র রোহিঙ্গা প্রতিনিধি। তিনি ওই সরকারের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপালন করেন। খোদ তার দাবী, এনইউজিতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে হবে। কারণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্যান্য অনেক জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে সংখ্যায় বেশি। তিনি নীতিনির্ধারকদের সাথে সেই বিষয়ে নিয়মিত আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এনইউজি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বিচারকার্য বন্ধের আপত্তি তুলে নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে অং সে মো আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি এনইউজিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান করার। তবে এক্ষেত্রে সকল রোহিঙ্গাদের আরো আওয়াজ তুলতে হবে।”
এদিকে দীর্ঘ ৫ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো অন্ধকারে পড়ে রয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। দিনদিন আরো আড়ালে চলে যাচ্ছে বিষয়টি। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে যেমন অনিশ্চয়তা বেড়েছে তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। তাই রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন জরুরি বলছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ খবর

২নং আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি আজ থেকে পূনরায় শুরু

নিজস্বপ্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ থেকে আবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি কার্যক্রম শুরু...

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝিলংজায় নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু, ভবন মালিকের অবহেলাকে দায়ী করছে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার সদরের ঝিলংজায় ভবন মালিকের অবহেলার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ নুর নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ জানারঘোনা...

আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ইয়াবা কারবারির মামলার রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশের দুইটি মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা...

পরীমনির দুঃখ ভোলাতে যা করলেন রাজ

টিটিএন ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে সারাবিশ্ব। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকরা জার্সি আর...