সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

কক্সবাজারে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, মৃত্যু ১ (ভিডিও)

আব্দুর রশিদ মানিক:

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারে করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগি ভর্তি হয়েছেন। যাদেরকে মশারির ভেতরে রেখে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চলতি সপ্তাহে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হলেও এবছর একটু আগে থেকেই জেঁকে বসেছে ডেঙ্গু। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কয়েকজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের।

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রুগীর স্বজন বলেন, আমার ভাই দোকানে কাজ করে। সেখানে কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। পরে দোকান থেকে ফোন দিয়েছে সে খুবই অসুস্থ। সেখানে গিয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে পরীক্ষা করালে আমরা জানতে পারি তার ডেঙ্গু হয়েছে।

ক্যাম্প থেকে এসে চিকিৎসা দেওয়া এক রোহিঙ্গা জানান, আমার ছেলের কয়েকদিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা ও সর্দি। কয়েকবার বমিও করেছে। ওকে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে সে বেহুঁশও হয়ে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠালে এখানে পরীক্ষা করে ওর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন এখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা ভালো লাগছে।

মশাবাহিত এ রোগ করোনা ভাইরাসের চেয়ে ভয়ানক জানিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমান জানান, জ্বর, শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনের দিকে ব্যথা, মাংসপেশি, হাড় এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলেই বুঝে নিতে হবে এসব ডেঙ্গুর লক্ষণ। তবে জ্বর, মাথাব্যথা এবং শরীরে ছোপ ছোপ দাগ—এই তিনটি ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ।

বর্ষা এলেই বেড়ে যায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। একে তো করোনা, তার উপরে আবার ডেঙ্গু! সব মিলিয়ে এখন সুস্থ থাকাটাই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর। চিকিৎসকরা এ রোগ থেকে বাঁচার করনীয় সম্পর্কে সবাইকে সচেতনতার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগিদের মশারী দিয়ে আলাদা করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ার পর পরই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন মেলেরিয়া আক্রান্ত ও ভর্তি হয়েছে। কয়েকদিন পর পর থেকে থেকে বৃষ্টি হওয়া মশার জন্য সুবিধাজনক। তারা সুন্দর করে বংশ বিস্তারের সুযোগ পায়। এগুলো থেকে বাঁচতে সবাইকে স্ব উদ্যোগে সচেতন হতে হবে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প সম্পর্কে ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকটি জায়গায় বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পে যারা কাজ করছেন সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের বাঁকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সেখানে মেডিসিন এবং স্প্রে ছিটিয়ে মশা নিধন করতে হবে। প্রয়োজন আইইডিসিআর থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মশার ধরন পরীর করতে হবে।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান পরামর্শ দেন, এডিস মশার জন্ম হয় পাত্রে জমে থাকা পানিতে। সপ্তাহে অন্তত একদিন আপনার বাড়ি এবং বাড়ির চারদিকে ঘুরে দেখুন কোথাও কোনো পাত্রে পানি জমে আছে কি না। যদি থাকে তাহলে তা ফেলে দিন বা পরিষ্কার করুন। যদি পাত্রটি এমন হয় যে পানি ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেখানে ব্লিচিং পাউডার বা লবণ দিন। গাড়ির অব্যবহৃত টায়ার বাসায় রাখবেন না, কারণ এখানে এডিস মশার জন্ম হয় । দই বা যেকোনো খাবারের পাত্র বাইরে ফেলবেন না।

বাথরুমে যদি পানি ধরে রাখতে হয় তাহলে পানির পাত্র সপ্তাহে অন্তত একবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালো করে ধুয়ে আবার পানি ভর্তি করুন। এডিস মশা পানির পাত্রের কিনারে ডিম পাড়ে এবং পাত্রের গায়ে আটকে থাকে, যে কারণে পানি ফেলে দিলেও ডিম যায় না। তাই এটিকে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কারের প্রয়োজন পড়ে। আপনার বাড়ির পাশে কোনো নির্মাণাধীন ভবন থাকলে, এটির লিফটের গর্ত, ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা, ড্রাম পরীক্ষা করুন।

যদি এসব জায়গায় জমে থাকা পানিতে ছোট ছোট পোকা দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন সেটি এডিস মশার লার্ভা বা বাচ্চা। নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করুন, যেন তিনি তাঁর বাড়িতে মশা জন্মানোর স্থান তৈরি না করেন। নির্মাণাধীন ভবনটি যদি আপনার হয় তাহলে সেখানে জমে থাকা পানিতে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাখুন। আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা থাকে মশা জন্মানোর মতো, তাহলে ওই অফিসকে জানান। বাড়ির আশপাশে গাছের গর্ত বা কাটা বাঁশের গোড়া মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন। কারণ গাছের কোটর বা বাঁশের গর্তে এডিস মশার জন্ম হয়।

বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। তাই আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

সর্বশেষ খবর

কটেজ থেকে জিম্মিদশা অবস্থায় শিশুসহ ৪জন উদ্ধার: ১১ দালাল আটক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারে হোটেল মোটেল জোনের কটেজ থেকে ২ শিশুসহ চার জনকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সোমবার সকালে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নে এক...

লঘুচাপে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সংকেত

টিটিএন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা...

আজ বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী

টিটিএন ডেস্ক: আজ ৮ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন। ১৯৩০ সালের এ দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ...

এবার বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া

টিটিএন ডেস্ক: দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রেনভাড়া বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। রোববার একটি গণমাধ্যমে রেলমন্ত্রী বলেন, ‌ট্রেন ও বাসের ভাড়ার...