শনিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২২

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে

কক্সবাজারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত পর্যটক

আয়াছুল আলম সিফাত :

কক্সবাজারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে দুই পর্যটক। এরমধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার ভোরে সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটে।

আহত পর্যটকরা হলেন, কুমিল্লার তিতাস থানার গোপালপুরের সামশুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৭) ও মোশাররফের ছেলে মো. শাকিল (২৯)। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।

ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আহত পর্যটকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পৌঁছেন তারা৷ গাড়ি থেকে নেমে সীগাল পয়েন্ট থেকে সমুদ্রসৈকতে নামেন ৷ এসময় ৫/৬ জন ছিনতাইকারী এসে তাদের গতিরোধ করে৷ পরে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর ধারালো ছুরি দিয়ে মেহেদী হাসানকে আঘাত করতে থাকে তারা। তাকে বাঁচাতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিলকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয়রা।

আহত শাকিল জানান, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েও তারা ক্ষান্ত হয়নি। মেহেদীকে ছুরি দিয়ে বুকের ডান পাশের পিটে দুটি এবং হাতে একটি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে হাত ছিদ্র হয়ে যায়। বুকের ডান পাশের পিটের অংশ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

এদিকে তাদের উদ্ধারের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে পড়তে হয় চিকিৎসা বিড়ম্বনায়। জরুরি বিভাগে দেখার পর তাদের পাঠানো হয় ৫ম তলার সার্জারীর ওয়ার্ডে। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং আহত পর্যটকদের জানায় শুক্রবারে সার্জারি হয়না।

খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, (তখন সকাল ১০.৪১ মিনিট) ৫ম তলার পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ডে অন্য একজন রোগীর বেডের উপর বসিয়ে রাখা হয়েছে ছুরিকাহত মেহেদী হাসানকে। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুস সবুর ও অপর ছুরিকাহত পর্যটক শাকিল।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, শুক্রবারে নাকি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) বন্ধ থাকে, তাই মুমূর্ষু পর্যটককে অপারেশন করানো সম্ভব হচ্ছে না। সেলাই না করার কারণে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক রুমে বসে থাকা একজন নারী চিকিৎসকের সাথে পূণরায় কথা বললে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, শুক্রবার ছুটির দিন। তাই শুক্রবারে ওটি বন্ধ। মেডিসিন সেবা ছাড়া আজ (শুক্রবার) অন্যকোন সেবা পাবেন না।
এরপর যোগাযোগ করা হয় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ও আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমানের সাথে।

ওই নারী চিকিৎসকের উদ্বৃতি দিয়ে শুক্রবারে ওটি বন্ধ থাকে কিনা জানতে চাইলে ডা. আশিক বলেন, ‘শুক্রবার বা কোন সময় ওটি বন্ধ থাকার কোন নিয়ম নেই। আপনি আরেকটু অপেক্ষা করুন, আমি দেখছি।’

এরপর সার্জারি ওয়ার্ডের (মহিলা সার্জারী ওয়ার্ড) মেডিকেল অফিসারের কক্ষে গেলে সেখানে দেখা যায় কয়েকজন চিকিৎসক বসে আছেন। এরমধ্যে একজন ব্যক্তি (পরে জানা যায়, তিনি ডা. সাকিব রেজা, তবে তিনি কোন দায়িত্বে আছেন জানা যায়নি) ট্যুরিস্ট পুলিশের ওই কর্মকর্তা ও এ প্রতিবেদককে জানান, শুক্রবার স্বাভাবিকভাবে ওটি খোলা থাকেনা। যদি খুব বেশি ইমারজেন্সি হয়, সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তবে সেক্ষেত্রেও একসাথে ৩/৪ জন রোগী জমা হতে হবে। কারণ একজন রোগীর জন্য ওটি খোলা হয়না।
বার বার অনুরোধ করার ফলে ডা. সাকিব রেজা বলেন, ‘সেলাই করার আগে একটা এক্স-রে করতে হয়। এখানে এক্সরে বন্ধ। আপনারা বাইরের হাসপাতাল থেকে একটা এক্স-রে করে আনেন। তারপর কি ধরনের সেলাই করতে হবে সেই অনুযায়ী করা হবে।

ততক্ষণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান, হাসপাতালের আরএমও ডা. আশিকসহ কয়েকজনকে চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি অবগত করা হলে ধীরে ধীরে নড়েচড়ে বসতে শুরু করে চিকিৎসকরা।
ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ডা. সাকিব রেজা তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে আবারও খোঁজখবর নেন ছুরিকাহত পর্যটক মেহেদী হাসানের।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, এক্স-রে করার পর দুপুরে ওটিতে নিয়ে গিয়ে সেলাই করা হয়৷
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরএমওকে ফোনে জানানো হয়েছিল।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান জানান, ‘যারা এই ধরণের কথাবার্তা বলেছে তারা ভালো করেনি, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ছুরিকাহত পর্যটকের চিকিৎসায় হাসপাতালের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ সচেতন মহল। হাসপাতালের এমন আচরণের ফলে পর্যটক এবং স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ ধারণা তৈরী হবে বলে ধারণা তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, ডিউটি সময়ে সদর হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে সার্জারি এবং চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে রোগীদের সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সদর হাসপাতালে।

অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকলেও একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে সমুদ্র সৈকতে।

সর্বশেষ খবর

কঠিন গ্রুপে ব্রাজিল, সহজ গ্রুপে আর্জেন্টিনা

টিটিএন ডেস্ক : ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যুকূপ’ বলে একটা কথা প্রতি বিশ্বকাপেই শোনা যায়। ড্রতে যদি তুলনামূলক শক্তিশালী একাধিক দল একই গ্রুপে পড়ে যায়,...

স্থগিত হওয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন শনিবার

সিয়াম সোহেল: ৯ বছর পর স্কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল ১৯ নভেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । শনিবার সকাল ১১ টায় কক্সবাজার শহরের...

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে বাহরাইনকে মোমেনের অনুরোধ

টিটিএন ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বাহরাইনের মানামায় এ...

কুতুবদিয়ায় দ্বীপবর্তিকা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি : কুতুবদিয়া দ্বীপবর্তিকার উদ্যোগে প্রথম বারের মত দ্বীপবর্তিকা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুতুবদিয়া মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার...